সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১০
পিতা কাহিনী
১। ম্যাট্রিক পরীক্ষায় ফাস্ট ডিভিশন পাওয়ার পর দাদা আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কোন কলেজে ভর্তি হবি?
আমার পিতা উত্তরে বলেছিলেন আমি কোন কলেজেই ভর্তি হমু না।
টানা ২দিন ওয়াক্তে ওয়াক্তে দাদা আমার পিতাকে গালি-গালাজ করেছিলেন। এসব কথা আমার পিতার মুখেই শোনা। দোকানে গেলে কোন এক বৃষ্টির দিনে যখন কোন কাষ্টমার থাকেনা তখন দুই-একজন সঙ্গী পেলেই বসে অতীতালাপ শুরু করেন। শোনান চাহিদার জন্য হাতে ফোস্কা ফেলার কাহিনী।
ছোটবেলা থেকেই আমি দোকানে যাই। বাজারে যাব,কিছু খাব...এই আগ্রহ থেকে বাজারে যেতাম। তথাপি আমাদের দোকানে যাই। বড় হতে হতে দোকানের প্রতি একধরণের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়। যতটুকু দোকান বিতৃষ্ণা বলা যায় এর চেয়ে বেশি বলা যাবে পিতা-বিতৃষ্ণা।
আমার পিতা খুবই গরম মাথার মানুষ। নিজে যা বুঝেন সেটাই সঠিক মনে করেন যেন এর বাইরে আর কিছু থাকতে পারে না। এই মাথায় তিনি অনেক কিছু করেছেন এই জীবনে। তার সফলতাই তাঁকে উগ্র বানিয়ে দিয়েছে। কথায় কথায় রেগে যান যদিনা কাজটা তার ইচ্ছামত হয়ে থাকে। দোকানে গেলে প্রত্যেকদিন তার ঝাড়ি খেতে হয় চার পাঁচ বার। কোন না কোন একটা কাজের বাহানায় তিনি ঝাড়ি দিবেন এজন্য দোকানের সাথে এক ধরণের দূরত্ব রেখে চলতে লাগলাম।
২। আমার দাদা কোন শলা-পরামর্শ করতেন তার বন্ধুবৎসল মালেক হাফজের সাথে। বাজারের আয়তন তখন অনেক কম ছিল,সেই ছোট বাজারে একমাত্র কাপড়ে দোকান মালেক হাফজের। দোকানে বসে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন বড় ছেলেরে কি কামে লাগানো যায়?
মালেক হাফজ তখন করিমপুরের সাদেকরে ধরে ভিসা করে দেয়। দাদা ভিসা টিকেটের জন্য গোয়ালবাড়ীর কাছে আট গন্ডা জমি বেঁচে দেয়। আমার পিতা কাতার গিয়ে প্রথম হোটেলে চাকরি করতেন। শুধু হোটেলে চাকরি করে পোষায় না দেখে ওভার খাটতে লাগলেন। সেখানে নতুনদের জন্য ওভার মানেই সিমেন্ট-রড় টানার মত কাজ। একশ বস্তা সিমেন্ট ১৮-২০ তলা উঠালে ৫ রিয়াল। অনেকে নাকি এই কষ্ট দেখে ওভার করেতে আসত না। আমার পিতা বাপের জমি বেচা টাকায় বিদেশে এসে ফ্রি টাইমটা শুয়ে বসে কাটাতে পারেননি। সিমেন্ট বোয়ে পিঠে গেজ আর হাতে ফোস্কা হয়েছিল সম্ভল,আর অর্জন ছোট তিন ভাইকে ধরিয়েছেন বিদেশে আসার ভিসা। শেষের দিকে অবশ্য অবস্থা ভালো হতে লাগল,তিনি সেখানে একটা কসমেটিক দোকান দিয়েছিলেন। সেজ চাচা যেটা এখনো করছে। ষোল বছর বিদেশ করার পর দেশে এসে...(অসমাপ্ত...বাকিটুকু শীগ্রই লিখব)
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)